Published : 17 Jul 2026, 09:14 PM
চার বলে চার ছক্কা—মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কি সত্যিই ম্যাচটি জয় করে দিলেন? উত্তরটি হ্যাঁ হলেও, এই কৃতিত্বের পেছনে লুকিয়ে আছে আরও অনেক নাটকীয়তা। জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র চব্বিশ রান। কিন্তু জিম্বাবুয়ের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার পেছনে ছিল সাইফউদ্দিনের সেই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স, যার ফলস্বরূপ তারা এতটা চাপে পড়ে যায়! বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ বড় রানের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। উদ্বোধনী জুটিতেই তারা ১২০ রান সংগ্রহ করে। যদিও সেই রান জিম্বাবুয়ের ফিল্ডারদের অবদানেই বেশি—এক সাইফ হাসানের ক্যাচ তারা পাঁচবার ফেলে দেয়। তানজিদ ও সাইফের ওপেনিং জুটি টি-টোয়েন্টিতে এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কিন্তু এই শুরুর পর হঠাৎই বাংলাদেশের ইনিংসে নেমে আসে বিপর্যয়। মাত্র তেরো বল আর উনিশ রানের ব্যবধানে তারা পাঁচ উইকেট হারায়।
৪৫ বলে ৫৫ রান করে সিকান্দার রাজার ১৫তম ওভারে সাইফ বোল্ড হওয়ার চার বলের মধ্যেই এনগারাভা ৪৪ বলে ৫৮ রান করা তানজিদকে আউট করে দেন। এরপর তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন এবং নুরুল হাসান ক্যাচ ফেলে দেন। বাংলাদেশের রান তখন দেড় শ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। তবে শেষটা ছিল এক দুর্দান্ত সমাপনী। ইয়াসির ও সাইফউদ্দিনের শেষ আক্রমণেই তারা পেল পাঁচটি উইকেট এবং ১৮৬ রান। রান তাড়া করতে গিয়ে প্রথম তিন ওভারে তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে মিল্টন সামুবা ও সিকান্দার রাজার জুটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও, রিশাদের বলে রাজা আউট হলে সেই আশা ধূলিসাৎ হয়। ২০ বলে ১৯ রান করা সামুবাও বোল্ড হন।
৮০ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ১৯ বলে ২৯ রান করা রায়ান বার্ল ও ১৪ বলে ২৫ রান করা ইভান্স চেষ্টা করলেও বেশিদূর যেতে পারেনি। রিশাদ এবং মেহেদী হাসান এই ম্যাচে তিনটি করে উইকেট নেন। জয়ী ম্যাচেও বাংলাদেশের অস্বস্তি ছিল। সাইড স্ট্রেনের আঘাতের ফলে নিজের তৃতীয় ও ইনিংসের তেরো ওভারের মাঝপথে মাঠ ছাড়েন নাহিদ রানা এবং তিনি আর ফেরেননি। আগামী রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি দুদল। বর্তমানে ১-১ ব্যবধানে সমতা বজায় রয়েছে।।